করোনাভাইরাস: নিউইয়র্কে গত ৩ দিনে আরও ২১ বাংলাদেশির মৃত্যু

পরিক্রমা ডেস্ক: গত ৪ এপ্রিল থেকে নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত অন্তত ২১ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এ তালিকায় বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি ও কার্যকরী সংসদের একজন সদস্যও রয়েছেন। নিউইয়র্কের বাইরে আরও কয়েকজনের মৃত্যুর সংবাদ জানা গেলেও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই ২১ জনের মধ্যে কয়েকজন নিউইয়র্কের বাইরের নিউ জার্সি বা মিশিগানের বাসিন্দাও থাকতে পারেন।

এ নিয়ে নিউইয়র্কে অন্তত ৭৯ জনসহ গত ১৯ দিনে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৯১ বাংলাদেশির মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হওয়া গেল।

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত আজকাল পত্রিকার সম্পাদক ও জ্যাকশন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে সামাজিক দুরত্ব কার্যকর করতে এক সঙ্গে একের বেশি মানুষের চলাচল কমানোর জন্যে এতোদিন পর্যন্ত জরিমানা ছিল ৫০০ ডলার। গতকাল থেকে তা বাড়িয়ে ১,০০০ ডলার করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও কঠোরভাবে তা প্রয়োগ করছে না।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৮৯ জনের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের গর্ভনর অ্যান্ড্রু কুমো। তিনি বলেছেন, ‘নিউইয়র্কে হাসপাতালে রোগীদের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে পাহাড়প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ‘কমফোর্ট’কে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল বানিয়ে নিউইয়র্কে নোঙ্গর করা হয়েছে। প্রথমে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল কররোনা আক্রান্ত নয় এমন রোগীদের এখানে ভর্তি করা হবে। কিন্তু, করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন শুধুমাত্র হাসপতালটিতে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কসহ কয়েকটি পার্কে অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু, তাতেও রোগীদের জায়গা হচ্ছে না।

এছাড়াও, নিউইয়র্কে লাশ রাখার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে।

নিউইয়র্ক শহরের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও প্রথমে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে কয়েকটি পার্ককে লাশ রাখা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের জন্যে রাখা হচ্ছে। তবে এর পরপরই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন তিনি। পরে তিনি বলেন, ‘এখন কুইন্স ও লং আইল্যান্ডের মাঝামাঝি হার্ট আইল্যান্ডকে শেষকৃত্যের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হবে।’

শেষকৃত্যের স্থান হিসেবে এই হার্ট আইল্যান্ড প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল ১৯৮০ দশকে যুক্তরাষ্ট্রে এইচআইভি সংক্রমণে অনেক মানুষ মারা গেলে।

ফ্লোরিডাসহ আমেরিকার আরও কয়েকটি রাজ্য থেকে চিকিৎসক, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকরা আসছেন নিউইয়র্কে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্যে। প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও এই ধারা অব্যাহত আছে।

নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ করোনায় বেশি সংক্রমিত এলাকাগুলোর নাম প্রকাশ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে: জ্যাকসন হাইটস, করোনা ফ্লাশিং, জ্যামাইকা ও ব্রুকলিনের কয়েকটি এলাকা। এসব জায়গায়, বিশেষ করে, জ্যাকসন হাইটস ও জ্যামাইকাতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা অনেক।

নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অভিবাসী ও অশ্বেতাঙ্গ এবং স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হার সবচেয়ে বেশি।