করোনাভাইরাস: যুক্তরাষ্ট্রে ১৪০ বাংলাদেশির মৃত্যু, ৩ বাংলাদেশি চিকিৎসকের সাফল্য

পরিক্রমা ডেস্ক: করোনার চিকিৎসায় নিউইয়র্ক সিটি সংলগ্ন লং আইল্যান্ডের প্লেইনভিউ হাসপাতালের বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ড. মোহাম্মদ আলম, ড. ইমতিয়াজ আহমেদ ও কুয়ানটাইরা হেলথের ড. রায়ান সাদির সম্মিলিত প্রচেষ্ঠা যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

তারা অ্যান্টিবায়োটিক ডক্সিসিকলাইনের সঙ্গে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের সমন্বয় করে লং আইল্যান্ডে বেশ কয়েকজন উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ‘কোভিড-১৯’ আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করে তুলেছেন।

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত আজকাল পত্রিকার সম্পাদক ও জ্যাকশন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ বলেন, ‘করোনা রোগীর চিকিৎসায় তিন বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসকের সাফল্য এখন নিউইয়র্কে আলোচিত বিষয়।’

‘করোনা মোকাবিলায় যখন যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে নিউইয়র্ক হিমশিম খাচ্ছে, তখন চিকিৎসকরা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছেন বলে মনে করছেন অনেকে। এই সাফল্য বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যে একটি ভালো খবর,’ যোগ করেন তিনি।

এদিকে, মার্কিন গণমাধ্যমকে এই তিন চিকিৎসক জানিয়েছেন, যে কয়েকজন রোগীকে এই ওষুধ দেওয়া হয়েছে, তাদের অধিকাংশই এখন পুরোপুরি সুস্থ।

গত ১১ এপ্রিল এবিসি নিউজের নিউইয়র্ক সংবাদদাতা ডেরিক ওয়ালের তার ভেরিফাইড টুইটারে বলেন, ‘আজ রাত ১১টায় উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন কোভিড-১৯ রোগীদের নতুন পরীক্ষামূলক চিকিৎসার ওপর রিপোর্টিং করবো। লং আইল্যান্ডে দুটি প্রচলিত ওষুধের সমন্বয়ে এই চিকিৎসা আশাব্যঞ্জক ফল দিয়েছে। অন্যদের মনেও আশা জাগাবে কি? চোখ রাখুন এবিসির পর্দায়।’

তিনি সেখানে একটি ছবিও পোস্ট করেন। তাতে লেখা আছে— ‘৪৫ রোগীকে ডক্সি-এইচসিকিউ-এর সমন্বয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই ৪৫ জনই ক্লিনিক্যালি সুস্থ।’

এবিসিকে ড. রায়ান সাদি বলেন, ‘এমন সাফল্য পাবো তা আশা করিনি।’

এই চিকিৎসা অন্যদের মনে আশা জাগাবে কিনা— এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি এই দুটি ওষুধের সমন্বয় করে প্রয়োগ করি তাহলে বলবো, “হ্যাঁ”, আশা জাগাবে।’

করোনাক্রান্ত ৪৫ রোগীর সুস্থতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই ৪৫ রোগীই ছিলেন উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন। এই সংখ্যাটি কম না!’

তবে ঘরে বসে কেউ যেন এসব ওষুধ প্রয়োগ না করেন সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে এবিসির প্রতিবেদনটিতে।

এছাড়াও, এবিসি নিউজের প্রধান মেডিকেল সংবাদদাতা ড. জেনিফার অ্যাশটন গণমাধ্যমটিকে বলেছেন, ‘এটি এখনো পরীক্ষামূলক অবস্থায় আছে। আরও অনেক অনেক পরীক্ষার প্রয়োজন।’

১৪০ বাংলাদেশির মৃত্যু

গতকাল নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় রাত ১১টা পর্যন্ত গত পাঁচ দিনে করোনাক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৪ দিনে ১৪০ বাংলাদেশির মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেল।

জাকারিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এদের অন্তত ৯০ শতাংশ মারা গেছেন নিউইয়র্কে। বকিরা নিউ জার্সি ও মিশিগানসহ অন্য দু-একটি রাজ্যে। তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সুসংবাদ হলো যে যুক্তরাষ্ট্রে করোনাক্রান্তের সংখ্যা কমছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।’

‘আরও একটি সুসংবাদ হলো: হাসপাতালে অনেক করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। অনেকের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল। অনেককে ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেন দেওয়া হয়েছিল। তারাও এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রে ‘আশার আলো’

জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির বরাত দিয়ে সিএনএন আজ জানিয়েছে, করোনাক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। তবে গত শনি ও রোববার মৃতের সংখ্যা কমেছে।

বিষয়টিকে ‘আশাব্যঞ্জক’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, গতকাল সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৮০ হাজার হলেও গত দুই দিনে তাও কমতে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেল ড. জেরোমি অ্যাডামস গতকাল টুইটারে বলেছেন, ‘এমন বিষাদময় ঘটনার মধ্যে দেখা যাচ্ছে আশার আলো।’