ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনে সক্রিয় শরীয়তপুরে ছেলে এস এম জাহাঙ্গীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ তিন যুগের চড়াই উৎরাই পেরিয়ে তৃনমূল থেকে উঠে আসা এক উজ্জ্বল নেতৃত্ব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। কর্মী-বান্ধব, সাহসী, নিবেদিত, আদর্শবান, জনদরদী বিশেষণগুলো যার নামের পাশে জায়গা করে নিয়েছে আপন মহিমায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রদত্ত জাতীয়তাবাদী আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আশির দশকে ছাত্রাবস্থায় রাজনীতির হাতেখড়ি। তারপরে শুধু রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, দলের প্রতি আনুগত্য ও রাজপথের পরিশ্রমকে পুঁজি করে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যখন যেখানে তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন, তিনি তা পালন করেছেন অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে।

এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ১৯৯০ সালে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে সাংগঠনিক রাজনীতি শুরু। ১৯৯১ সালে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রত্যক্ষ ভোটে ডিগ্রীতে অধ্যায়নরত অবস্থায় তেজগাঁও কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভি.পি হয়। ১৯৯৪ সালে অভিবক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের (পিন্টু-নীরব কমিটি) সমাজ সেবা সম্পাদক নির্বাচিত হয়। ২০০০ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক। ২০০১ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক হয়। পরবর্তীতে পিন্টু-লাল্টু, লাল্টু-হেলাল ও হেলাল-বাবু কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি থেকে আহবায়ক। ২০১০ সালেই ছাত্র রাজনীতি বিদায় নিয়ে যুবদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পাশাপাশি কেন্দ্রীয় যুবদলের প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরকারের রোষাণলে কারনে তাঁকে দুই শতাধিক মামলায় আসামী করা হয়েছে ও বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করতে হয়েছে। কিন্তু এসব মামলা হামলা ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল দাবি আদায়ের আন্দোলনে রাজপথের মিছিল থেকে তাঁকে দূরে রাখতে পারেনি।

মহানগর ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক রাজনীতির পাশাপাশি এস এম জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন ঢাকা-১৮ আসনের তৃনমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে ও স্থানীয় বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে। তাঁর কর্মী বান্ধব আচরন, নিরলস পরিশ্রম ও সাংগঠনিক বিচক্ষণতার ফলে আজ ঢাকা -১৮ আসনের ৭টি থানা তথা দক্ষিনখান, উত্তরখান, বিমানবন্দর, তুরাগ, খিলক্ষেত, উত্তরা পূর্ব ও উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপিসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। কেবল নিজের দলের নেতাকর্মীই নয়, সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর সৌহার্দ্য ও সৌজন্যতাবোধের কারনে তিনি সকল শ্রেনী পেশার মানুষের নিকট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। জনদরদী ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিত্ব হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের মণিকোঠায়। সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারীতে তিনি জনগনের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে। চলমান করোনা সঙ্কটেও এস এম জাহাঙ্গীরের ভূমিকা অভূতপূর্ব ও প্রশংসনীয়।

ঢাকা-১৮ আসনের প্রত্যেকটি থানার স্থানীয় জনগনই তাঁর মানবিকতার প্রধান সাক্ষী। স্থানীয় জনগনের দাবির মুখেই বিগত ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিএনপি থেকে মনোনয়ন চান। ২০১৮ সালে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেলেও দলের বৃহত্তর স্বার্থে জোটের প্রার্থীকে আসনটি ছেড়ে দেন। দলের দুঃসময়ে ও চলমান আন্দোলনে দলের প্রতি নিবেদিত থেকে এবার দলের নিকট সেই দাবির জায়গাটা আরও পোক্ত হয়েছে। এবং তৃনমুল বিশ্বাস করে, বিএনপি আসন্ন উপ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে এস এম জাহাঙ্গীর-ই হবেন ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষের প্রতিনিধি। এস এম জাহাঙ্গীর শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার কৃতি সন্তান।

এসএইচ/ এমটি