প্রকৃতির টানে চায়ের দেশে ইয়ুথ জার্নালিস্টস ফোরাম

রফিকুল ইসলাম: প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য্য দেখতে কার না ভালো লাগে? প্রকৃতির প্রতি অসিম টান আর ভালোবাসা থেকে নানা কর্ম-ব্যস্ততার মাঝে নিজেদেরকে মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের চাদরে আচ্ছাদিত করতে আমরা এক ঝাঁক তরুণ সাংবাদিক সম্প্রতি ছুটে গিয়েছিলাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলায়।

ঝক ঝক ট্রেনের শব্দ শুনে আর বন্ধুদের সাথে খোশ গল্প করে সেদিন রাতটি যে কখন কাটালাম টেরেই পেলাম না।ভোর যখন 8টা আমরা তখন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ রেল স্টেশনে পৌছলাম। স্টেশনে আমরা কিছুক্ষণ বসে চা-নাস্তা খেলাম। সেসময়কার মৃদু বাতাস আমাদের মন ছুয়েছিল।

বলছিলাম গত ১০ নভেম্বরের আমাদের বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ-২০১৯ এর কথা। দেশের তরুণ সাংবাদিকদের সংগঠন ইয়ুথ জার্নালিস্টস ফোরাম বাংলাদেশ (ওয়াইজেএফবি) এ আনন্দ ভ্রমণটি আয়োজন করে।

এরপর সকালেই আমরা চলে আসি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ডরমিটরিতে।দো-তলা বিশিষ্ট বেডে শয়ন আমারা খুব উপভোগ করেছিলাম। একটু বিশ্রম নিয়েই আমরা প্রকৃতির সাথে ছবি তুলতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পরলাম।

দেশের ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে অপার লীলা ভূমি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মাঝে সবচেয়ে দর্শণীয়, নান্দনিক ও আকর্ষণীয়। পশুপাখি, বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাস স্থল এটি। উদ্যান ভ্রমণ পিপাষুদের জন্য এখন একটি আকর্ষনীয় স্থান। ১৯৯৬ সালে ১২৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে লাউয়াছড়াকে ঘোষণা করা হয় জাতীয় উদ্যান হিসেবে।

প্রকৃতির কন্যা মৌলভীবাজার জেলার আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো মধ্যে টিলাঘেরা সবুজ চা বাগান, কুলাউড়ার মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিল, কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, ত্রিপুরা সীমান্তবর্র্তী ধলই চা বাগানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, মাধবপুর লেক, সীমান্তবর্তী ঝর্নাধারা হামহাম জলপ্রপাত, হ্রদ ও গলফ মাঠ, শিল্পকলা সমৃদ্ধ মণিপুরীসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিভিন্ন জাতিসত্তার জীবন ধারা ও সংস্কৃতি অন্যতম।
যাইহোক দুপুর গড়ানোর আগেই আমরা চলে যাই উচু উচু টিলাঘেরা সবুজ চা বাগানরে মাঝে মাধবপুর লেকে। হালকা-হালকা বৃষ্টির মাঝে পাহাড়ের চূড়ায় উঠা আর ছবি তোলার আনন্দ ছিল অন্যরকম। সেদিন পুরো বিকাল কাটিয়েছিলাম বিশাল এলাকা জুড়ে লাউয়াছড়ার শত শত বছরের নানা প্রজাতের গাছপালা দেখে। ভাগাভাগি করেছিলাম আমাদের আনন্দ।

ওয়াইজেএফবি-এর সভাপতি তানভীর আলাদিন ও সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন কাদের’র নেতৃত্বে এই আনন্দ ভ্রমণে সংগঠনের ত্রিশজন সদস্য সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেছিলাম। আনন্দ ভ্রমণে অন্যান্যের মধ্যে ওয়াইজেএফবি-এর কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এ.কে. আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক আউয়াল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক এম. জহিরুল ইসলাম, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সিদ্ধার্থ শঙ্কর ধর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, যুব ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক নির্মল কুমার বর্মন, প্রচার সম্পাদক সাখাওয়াত মিশু, মুন্সিগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেন, লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম খান, সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি আমিনুল হক, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি সভাপতি মো. আবদুল কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা প্রমুখসহ অতিথি হিসাবে সংগঠনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ডিইউজে’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিঞা এবং প্রবাসী ব্যবসায়ী টিপু সুলতান অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে, শনিবার ওয়াইজেএফবি সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন কাদের’র নেতৃত্বে কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্তে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ ও তাঁর শাহাদাৎবরণের স্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এমটি/এআর