প্রশাসনের সাহসী কর্মকর্তা শরীয়তপুরের মেয়ে মমতাজ বেগম (মম)

মমতাজ বেগমের কথা ও আচরণে অসাধারণ আপসহীনতা, বলিষ্ঠতা এবং সততা রয়েছে। তিনি কর্তব্য পালনে প্রবল নিষ্ঠাবান। বলা চলে অত্যন্ত স্বাধীনচেতা ও প্রতিবাদী এবং প্রচণ্ড প্রাণচঞ্চল, কর্মচঞ্চল ব্যক্তিত্ব হলেন প্রশাসন ক্যাডারের তরুণদের আইডল মমতাজ বেগম। প্রশাসন ক্যাডারের আলোকিত, আলোচিত এবং সাহসী এই কর্মকর্তাকে নিয়ে লিখেছেন মহিউদ্দিন তুষার।

মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ আরও যত ধর্মের মানুষ আছে, সব মানুষই এক। মানুষ যখন ভালো হয়, তখন সমাজও সুন্দর হয়। সমাজ সুন্দর হলে সুন্দর হয় রাষ্ট্র। রাষ্ট্রকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব আমার-আপনার, আমাদের সবার। মানুষ ভালো না হলে যেমন রাষ্ট্র সুন্দর হয় না, তেমনি রাষ্ট্র সুন্দর না হলে মানুষ ভালো থাকতে পারে না। এজন্য যুগে যুগে যত নবী-রাসূল এসেছেন, তাদের দাওয়াতি মিশন ছিল দু’টি। এক. ভালো মানুষ তৈরি করা। দুই. ভালো মানুষকে সংগঠিত করা। সমাজের অবনতি শুধু খারাপ মানুষের জন্য ঘটে না। এর পেছনে ভালো মানুষের নিষ্ক্রিয়তাও দায়ী। তাই এখনো অসংখ্য অদম্য ভালো মানুষ জেগে আছেন নতুন স্বপ্ন বুননের জন্য। আর তখনই একটি দেশ ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ, আবেদন-নিবেদন শুনছেন এবং তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি করে জনগণকে সেবা প্রদান করে চলেছেন। এ ছাড়া তিনি মোবাইলে বা লিখিতভাবে বিভিন্ন অভিযোগ এবং আবেদন নিবেদন নিষ্পত্তি করছেন। এতে জনদুর্ভোগ লাঘবসহ সরকারের প্রতি জনগণের ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করছেন। বর্তমান সরকারের গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপ যেমন সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নারী নির্যাতন ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে কাজ করে প্রশংসিত ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের হার আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং রোধ, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন সভা-সেমিনার করে জনমত গড়ে তুলছেন। আর এসব বিষয়ে সফলতা পেতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা যাতে নিয়মিত পরিদর্শন করেন, সে ব্যাপারে উৎসাহ দেন এই নির্বাহী কর্মকর্তা। এছাড়াও বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধে উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন তিনি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবদান রাখছেন। তার নেতৃত্বে এ বছর সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে রূপগঞ্জে জেএসসি ও পিএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার উপযোগী আবহ তৈরি হয়েছে। এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অত্র এলাকায় সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

মমতাজ বেগম (মম) রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২০১৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। তিনি ২৯তম বিসিএস-এ প্রশাসন ক্যাডার। কর্মজীবনের শুরুতে ২০১১ সালে ডিসি অফিসে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৫ সালের মে মাসে সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে মতিঝিলে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে একই পদে ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলে যোগদান করেন। সেখান থেকে ২০১৭ সালে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে ফের ডিসি অফিসে যোগদান করেন। তার পৈতৃক নিবাস শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায়। পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব সরদার, মাতা আলেয়া বেগম। স্বামী শেখ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন সরোয়ার। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। মমতাজ বেগম দুই সন্তানের জননী। প্রথম কন্যাসন্তানের নাম শেখ আফরাহ ইসলাম ও ছেলে শেখ আবরার আযওয়াদ (আরাশ)। মমতাজ বেগমের কথা ও আচরণে মাধুর্য বলিষ্ঠতা এবং সততা রয়েছে। তিনি কর্তব্য পালনে প্রবল নিষ্ঠাবান। বলা চলে অত্যন্ত স্বাধীনচেতা ও প্রতিবাদী এবং প্রচণ্ড প্রাণচঞ্চল, কর্মচঞ্চল ব্যক্তিত্ব হলেন প্রশাসন ক্যাডারের তরুণদের আইডল মমতাজ বেগম।

২০১৩ সাল। দেশে শুরু হয় সরকার পতনের জন্য জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন। ঢাকা ডিসি অফিসে থাকা অবস্থায় তিনি ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব পালন করেন একাধারে ৪ মাস। যদিও সারা বছর ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব পালন করে ছিলেন, তবে ঐ সময়টা ছিলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে প্রতিদিন বাস ট্রাকের ধর্মঘট হতো এবং মানুষের শরীরে পেট্রোল, ডিজেল ও কেরসিন ঢেলে তাদের পুড়িয়ে মারা হতো, সেই সময়টায় সফলতার সাথে ম্যাজিস্ট্রেসি করাটা ছিলো বড় চ্যালেঞ্জের। ২০১৩ সালে ভাটারায় শিবিরের বড় আস্তানা ছিলো। ওখান থেকেই জ্বালাও পোড়াওয়ের সংকেত দেওয়া হতো। ভাটারাকে বলা হতো শিবিরের ঘাঁটি। একজন নারী কর্মকর্তা হয়ে এমন বিপজ্জনক স্থানে মমতাজ বেগম নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন সাহসিকতার সাথে। রাত দুইটা কিংবা তিনটার সময় ফোন এলেই ঘটনাস্থলে চলে যেতেন। সেখানে গিয়ে আইনগত যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নিতেন। একদিন সকাল ১১টার দিকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন তিনি। ঐ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে শিবির ক্যাডাররা ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে তাদের অনেকেই দৌড়ে চলে যান, কিন্তু মমতাজ বেগম সামনের দিকে এগিয়ে যান। তার সাহসিকতা দেখে পরক্ষণে সাথে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে ‘সাহসী বস’ বলে সম্মান করেন।

২০১৫ সাল। মমতাজ বেগম সবেমাত্র সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে মতিঝিলে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। এক ভদ্রলোকের জমির সিটি রেকর্ডে সামান্য ভুল ছিলো, ফলে তিনি প্রায় ৬ বছর ধরে ভূমি অফিসে ঘুরছেন রেকর্ডটি সংশোধনের জন্য। দখল এবং জমির দলিল সূত্রে তার জমির পরিমাণ ১১ শতাংশ হলেও নতুন রেকর্ডে উল্লেখ করা হয় ১১ অযুতাংশ। মমতাজ বেগম যোগদানের দু’দিন পরই ওই লোকটি আসলে। তিনি জমির সমস্যা সম্পর্কে তাকে অবগত করলেন। তিনি বললেন তার জমির পরিমাণ ১১ শতাংশ কিন্তু রেকর্ডে উঠেছে মাত্র ১১ অযুতাংশ। তবে আমি বর্তমানে ১১ শতাংশ জায়গার দখলে রয়েছি। এই সমস্যাটা সমাধান করার জন্য দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ঘুরছি, কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করছেন না। তিনি আরও জানান কোনো এক ব্যক্তির সাথে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সমাধান করতে চাইলেও সেই পক্ষ ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। যার জন্য ৬ বছরেও সমাধান হয়নি। ভুক্তভোগীর মুখে এমন কথা শুনে মমতাজ বেগম তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে লোক পাঠান এবং বিবরণের সত্যতা পেলে পরের দিন বিনা পয়সায় জমির সমস্যা সমাধান করে দেন।


২০১৯ সাল। রূপগঞ্জে যোগদানের পরের দিনই এক সংখ্যালঘু বৃদ্ধা তার অফিসে এসে হাজির। মহিলার অভিযোগ স্বামীর কেনা ৫ শতাংশ জমির মধ্যে তার বাড়ি। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই স্থানীয় চারপাশের লোকজন তাদের জমি একটু একটু করে দখলে নিতে থাকে। একটা সময় তাদের ঘর থেকে বের হবার রাস্তা পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি ওই বৃদ্ধা। মমতাজ বেগম তার সমস্যা শোনার পর বৃদ্ধার বাড়িতে উপজেলার লোকজন পাঠান ঘটনার সত্যতা জানার জন্য। বৃদ্ধার অভিযোগের সত্যতা মিললে জমির দখলদারদের তা সমাধান করার সময় দিলেও তারা সমাধানে আসতে পারেননি। পরে মমতাজ বেগম দায়িত্ব নিয়ে বৃদ্ধার জমিতে বাউন্ডারি করে দেন। এই ঘটনার পর উপজেলার সবশ্রেণির মানুষ তার কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

মমতাজ বেগম রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কর্মরত হবার পর ৩৭টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে সবার মাঝে জনসচেতনতামূলক সাড়া ফেলেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাস্তার দু’পাশে প্রায় ৪ কি:মি: জনসচেতনতামূলক স্থিরচিত্র তৈরি করে তিনি শুধু রূপগঞ্জে নয়, সারা বাংলাদেশে আলোচিত হয়েছেন। উপজেলা পরিষদ চত্বরে তার পরিকল্পনায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন সারাদেশের উপজেলার জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে।

আরও কিছু ঘটনা

খয়তুন নেছা (৭৫)। স্বামী মৃত ছাদেম আলী বেপারী। আর্থিক সাহায্যের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগমের দপ্তরে আসেন। তার পায়ের হাড় ভাঙ্গা থাকায় চলাচলে অক্ষম এই নারী অন্যের কাঁধে ভর করে এসেছেন। মমতাময়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম তৎক্ষণিক খয়তুন নেছাকে একটি হুইল চেয়ার প্রদান করে তার চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য আনার চেষ্টা করেন। হুইল চেয়ারটি পেয়ে খয়তুন নেছা মমতাজ বেগমের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন এবং হাসিমুখে বাড়ি ফিরে যান।

তিন বোনের সবার বড় রূপা। সংসারে অভাব অনটনে পড়াশুনার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় ওর। রূপাকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধন্ত নেয় পরিবার। সেই খবর শুনে মমতাজ বেগম ছুটে যান ওদের বাড়িতে। পরিবারকে বাল্যবিবাহের কুফল বুঝিয়ে মেয়েটির পড়াশুনার দায়িত্ব নেন এই কর্মকর্তা।
মমতাজ বেগম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে রূপগঞ্জ উপজেলাধীন বিভিন্ন ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অপরাধে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদ্যুৎ আইন ১৯১০ এর ৪০(ক) ও ৪৪ ধারায় জরিমানা করেন। এছাড়া উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকগণের নিকট হতে আমন ধান ২০১৯-২০২০ সংগ্রহ অভিযান চালিয়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন।
বাংলাদেশে কোনো যুবক বেকার থাকবে না এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সারা দেশে যুবকদেরকে ভ্যানের (গাড়ি) মাধ্যমে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রূপগঞ্জ উপজেলায় মাসব্যাপী যুবকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করান মমতাজ বেগম।

দেশে প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এই কনকনে শীতে যারা অসহায় জীবন যাপন করছেন এমন হতদরিদ্রের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম। তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শীতার্ত মানুষের দুর্দশা লাঘব করতে রাতে কম্বল বিতরণ করেন।

চার বছর আগে আগুনে পুড়ে যায় রেখা দম্পতির ঘর। তার পর থেকেই পলিথিন মোড়ানো ছাপড়া ঘরে বসবাস করে আসছিলেন এই পরিবারটি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর ঘরের জন্য আবেদন করলে তাৎক্ষণিক তিনি এক স্টাফকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পাঠান। আবেদনের সত্যতা পাওয়ার পরপরই মমতাজ বেগম দ্রুতই টিন ও নগদ অর্থ নিয়ে ছুটে যান রেখা দম্পতির বাড়িতে।

এতো গেল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু ঘটনার বিবরণ। বাংলাদেশের গৌরবময় অগ্রযাত্রায় নারীর অগ্রগতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছেন মমতাজ বেগম। জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে এবং নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তিনি। মমতাজ বেগম মনে করেন, প্রশাসনে চাকরি করলে সাধারণ মানুষের পাশে থাকা যায়। প্রশাসনে চাকরির মাধ্যমে জনবান্ধব ইচ্ছাগুলো পূরণ করাও সহজ হয়। তিনি বলেন, সমাজের পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে পুরুষের ইতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। বাল্যবিয়ের শিকার স্বামী পরিত্যক্ত মেয়েদের স্বাবলম্বী করার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হয়েছে। সেইসঙ্গে নারী শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা হচ্ছে। স্কুল-কলেজ থেকে মেয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধে ওদের বাইসাইকেল, স্কুল ব্যাগ, ছাতাসহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছে সরকার। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের জন্য সেবা কর্নার খোলা হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের সকল ধরনের সেবা প্রদান করা হয়। যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সম্পর্কিত অন্যান্য সেবা। প্রশাসন পরিচালনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকলে সব ধরনের প্রতিকূল পরিবেশে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করতে পারেন। ইউএনও হিসেবে আইন-শৃঙ্খলাসহ সব দিক দেখভাল করতে হয়। সে ক্ষেত্রে পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছি। আমি মনে করি, আমরা সবাই মানুষ। কে পুলিশ, কে ইউএনও, কে এমপি, মন্ত্রী এটা বড় কথা নয়। মানুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করেছি, মানুষের জন্যই কাজ করতে চাই।

প্রশাসনের সফল কর্মকর্তা মমতাজ বেগম। যার অনন্য সাহসিকতা প্রশাসনের ভাবমূর্তি পর্বতসমান উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তার সততা অনেকের জন্য দৃষ্টান্ত। যিনি সহানুভূতি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার লক্ষ্য একটাই অপরাধ দমন, আইনের শাসন, দুর্নীতি দমন এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়ন। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সম্পর্কে চিরাচরিত ধারণা তিনি পাল্টে দিয়েছেন। চাকরির ছক বাঁধা জীবন থেকে বেরিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মতো সেবাপ্রার্থী মানুষকে পরম মমতায় কাছে টেনেছেন, প্রাণ খুলে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমলাতন্ত্রের পুরনো দীর্ঘসূত্রতার প্রথা ভেঙে তাৎক্ষণিক সিন্ধান্ত বা পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেকোনো অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখামাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠে ‘না’ বলেছেন, প্রতিরোধ করেছেন কিন্তু আপস করেননি। প্রশাসনে এমন মমতাজ বেগম আরও প্রয়োজন। যারা পাল্টে দিবে ঘুণেধরা সমাজকে, দেশকে করবে দুর্নীতিমুক্ত।