বিশ্বকাপটা পেলে আর কিছু লাগবে না প্যাভিলিয়ানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিলেন। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর নিদাহাস ট্রফিও প্রায় মিস করেই ফেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। এরপর শ্রীলঙ্কা উড়ে গেছেন হুট করে, বাংলাদেশ গেছে ফাইনালে। এই যাত্রাপথটাকে ‘রোলার-কোস্টার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। সেই রোলার-কোস্টারটা চলছেই, সাকিব এখন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ খেলতে ভারতে। সেখান থেকেই সাকিব কথা বলেছেন প্যাভিলিয়নের সঙ্গে। কাউন্টি খেলার ইচ্ছার সঙ্গে জানিয়েছেন নিজের ক্রমাগত বদলাতে থাকা স্বপ্নের কথা। জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে তার দর্শনটাও জানিয়েছেন..

চোটের কী অবস্থা এখন?

অবস্থা ভাল এখন, সুস্থ আছি।

আইপিএলে বেশ কিছু মৌসুম কলকাতায় কাটানোর পর এবার নতুন দল, কলকাতাকে মিস করবেন?

(হেসে) নাহ, মিস করার কী আছে এখানে।

আপনার নতুন দল হায়দরাবাদের অবস্থা কেমন?

মাত্র একদিন হলো আসলাম। চার-পাঁচদিন গেলে বুঝতে পারব। তবে হায়দরাবাদে তো এটাই প্রথমবার আসা নয়, সেদিক থেকে এটা পরিচিত জায়গাই বলতে গেলে। নতুন বেশ কিছু সতীর্থ আছে, তাদের সঙ্গে বন্ধনটা তৈরি হতে কয়েকদিন সময় লাগবে। তারপর ইনশাআল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে।

এতদিন আইপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয়, পৃথিবীর অন্যান্য লিগের সঙ্গে আইপিএলের পার্থক্য কী? আইপিএল কেন আলাদা? পেশাদারিত্ব কি এখানে একটু বেশি?

সবচেয়ে পুরোনো টুর্নামেন্ট বলতে গেলে তো এটাই। এই কারণেই এটার আলাদা একটা মর্ম আছে। আর এখানে সবদিক থেকেই বলতে গেলে বেশি বেশি আছে। প্লেয়াররা বেশি ম্যাচ খেলতে পারে, এক্সপোজার বেশি, বেশি মানুষ সম্পৃক্ত থাকে এখানে। টাকা-পয়সার ব্যাপারটাও এখানে বেশি। সব মিলিয়ে এটা এমনিতেই সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট।

আর পেশাদারিত্ব এখানে অন্যগুলোর চেয়ে বেশি, এটা আসলে বলবো না। পেশাদার ক্রিকেটাররা সবখানেই একই রকম পেশাদারিত্বের সঙ্গেই খেলার চেষ্টা করে।

আচ্ছা, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সঙ্গে দেশের বাইরে গিয়ে তো একসময় কাউন্টিও খেলেছেন। আবার খেলতে ইচ্ছা হয় না?

খেলতে তো ইচ্ছা করে অবশ্যই। কিন্তু সময়ের অভাবে আসলে হয়ে ওঠে না। তবে ইচ্ছা তো আছেই, বিশ্বকাপের (২০১৯) আগে যদি কিছু ম্যাচ খেলতে পারি, সেটাও খুবই ভাল হবে।

২০১৫ সালে শেষ প্রথম শ্রেণির ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন বাংলাদেশে। তাও শুধু একটি ম্যাচ। এর আগে শেষ ঘরোয়া প্রথম শ্রেণি খেলেছেন ২০১০ সালে, কাউন্টিতে। শুধু টেস্ট ম্যাচই কি ম্যাচ অনুশীলনের জন্য যথেষ্ট মনে হয় আপনার কাছে? যখন বাংলাদেশ তুলনামূলক কম টেস্ট খেলে…

আমার জন্য তো যথেষ্ট মনে হয়। বাকিদের কথা অবশ্য বলতে পারবো না। এতদিন খেলার পরে আসলে এসব কী খেলা হতে পারে না পারে, কী খেলা হলো কী হলো না, এগুলোর ওপর এতকিছু নির্ভর করে না।

এখন মোটামুটি আপনি ক্রিকেটেরই একজন দূত। আইসিসি এবার দশ দলের বিশ্বকাপ করছে, বাংলাদেশ খেলছে। তবে পূর্ণ সদস্য হয়েও জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড নেই। জিম্বাবুয়ের কথা যদি আলাদা করে বলা হয়, একসময় বাংলাদেশ অনেক ম্যাচ খেলেছে তাদের সঙ্গে। বাছাইপর্বের পর তাদের অধিনায়ক, কোচ- সবাইকে বহিষ্কার করতে একরকম বাধ্য হয়েছে বোর্ড। ক্রিকেটের প্রসারে জিম্বাবুয়ের এই অবস্থাটা কি প্রতিবন্ধকতা নয়?

এটা নিয়ে আসলে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না। এটা স্পর্শকাতর বিষয়, এখানে মন্তব্য করা সমীচিন হবে না আমার জন্য।

আর ক্রিকেটের প্রসারের কথাই যদি বলা হয়, টি-টোয়েন্টির ভূমিকা আসলে কতখানি?

আমার কাছে তো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, টি-টোয়েন্টিকে আরও বিকশিত করার মাধ্যমেই ক্রিকেটের প্রসার ঘটানো সম্ভব। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটটা গুরুত্বপূর্ণ এক্ষেত্রে।

নিদাহাস ট্রফির আগে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশী একটা ব্র্যান্ড নিয়ে বেশ কথা হয়েছিল। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ যেভাবে খেলল, যেমন শরীরী ভাষা ছিল, সেটাই কি বাংলাদেশের জন্য একটা ব্র্যান্ড হতে পারে টি-টোয়েন্টিতে?

এটা বলা একটু মুশকিল। তবে এরকম অ্যাপ্রোচ থাকলে বেশিরভাগ সময় ভাল করার সম্ভাবনা থাকে।

টি-টোয়েন্টিতে তো অধিনায়কত্ব করছেন এখন, তবে আপনার শুরুটা টেস্ট দিয়ে। টেস্টে অধিনায়কত্বটা সীমিত ওভারের চেয়ে কতখানি ভিন্ন?

আমার কাছে তো আলাদা মনে হয় না। ওখানেও জেতার জন্য চিন্তা করতে হয়, এখানেও জেতার জন্য করতে হয়। চিন্তার ধরনটা শুধু একটু বদলাতে হয়, এছাড়া আর কিছু করতে হয় না।

একটু অন্য প্রসঙ্গ, বয়স তো ৩১ হয়ে গেল, পেছন ফিরে তাকালে জীবনটা কেমন মনে হয়?

সবই তো ভাল দেখি। অপ্রাপ্তি বলতে কিছু নাই।

প্রথমবার এক নম্বর অলরাউন্ডার হওয়ার পর একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আপনি আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেন। সেই আকাশটা কতোদূর এখন?

(হেসে) জানি না। (আকাশটা) কতোদূর, এটা বলা মুশকিল। স্বপ্ন তো বদলাতে থাকে, না? এ কারণে এটা বলা কঠিন, যে আমি কতোদূর গেলাম, এটাই আমার লক্ষ্য কি না, আমি সেখানে পৌঁছে গেলাম কিনা। এগুলো আসলে বলা মুশকিল।

স্বপ্ন তো বদলাতে থাকে।

                                                           প্যাভিলিয়নের গুগলি, সাকিবের স্কুপ

 

কথা বলতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন কোন শব্দ? 

বেশি ব্যবহার করি মনে হয় ‘জানি না’ শব্দটা

এক শব্দে নিজেকে বর্ণনা করতে বললে কী বলবেন? 

এক শব্দে কী বলবো, জানি না

বিকেএসপির সাকিবের সঙ্গে টাইম মেশিনে চড়ে গিয়ে যদি দেখা হয়, তাহলে তাকে কোন পরামর্শ দেবেন?

যেভাবে করে এখন সাকিব আল হাসান হয়েছে, সেটা করতে বলবো

যদি বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ বা এসসিজি অথবা লর্ডসের মাঠে একই টেস্টে সেঞ্চুরি আর দশ উইকেটের একটি বেছে নিতে বলা হয়, কোনটা নিবেন?

বিশ্বকাপটা পেলেই চলবে, এগুলোর মাঝে আর কিছু লাগবে না

ক্রিকেটার হিসেবে সবচেয়ে পীড়াদায়ক অপ্রাপ্তি কোনটি?

এখন পর্যন্ত ওইরকম কোনও অপ্রাপ্তি নাই

যদি অন্য একজন ক্রিকেটার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে কোন ক্রিকেটার হতে চাইতেন?

চাইতাম না, সাকিব আল হাসানই ঠিক আছে

বাংলাদেশ বাদ দিলে ঘোরাঘুরির জন্য ভাল লাগে কোন দেশ? 

যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া

বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল বন্ধু কে আপনার? 

(কিছুক্ষণ ভেবে) ওরকম কেউ নাই

ধরেন, আপনাকে একটা সুপারহিরো হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো। কোনটা হতেন? 

সুপারহিরো? (এবারও ভাবলেন কিছুক্ষণ) উম, আয়রনম্যান।

যে ছবিতে যে চরিত্রে অভিনয় করতে চান..

অভিনয় করতে চাই না

আপনার স্বপ্নের ডিনার পার্টিতে কারা থাকবেন? 

শুধু (লিওনেল) মেসিকে পেলেই চলবে

শুধু মেসি, আর কাউকে লাগবে না?

নাহ।

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম না টুইটার? 

আমার তো একটাও ব্যবহার করতে ইচ্ছা করে না, কিন্তু করতে হয়

কাকে দেখে ফুটবলে আর্জেন্টিনা সমর্থন শুরু করেছিলেন? 

মনে নাই কেন শুরু করলাম, কিন্তু এখন শুধু মেসির জন্যই তাদের খেলা দেখি

বিশ্বকাপ ফুটবলে এবার চ্যাম্পিয়ন হবে কে? 

(বেশ হতাশার সুরে) ব্রাজিল!

আবারও স্বপ্নভঙ্গ হবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের? 

স্বপ্নভঙ্গের কথা আসতেছে কেন… সমর্থক হলেই যে স্বপ্ন দেখতে হবে, তেমন কিছু তো না..

ফুটবলার হলে কোন ক্লাবে খেলতে চাইতেন? 

ফুটবলার তো হতাম না।

অতীতের যে জিনিসটা বদলাতে চাইবেন..

যা আছে, ঠিক আছে। কিছুই বদলানোর দরকার নেই।

মাঠে নামার আগের কোনো কুসংস্কার আছে? 

মনে পড়ে না তো

ব্যাটিংয়ে নামার আগে গান শোনেন?

গান শুনি না সেসময়

ক্রিকেটার হিসেবে অবসর নেওয়ার পর যে পেশায় দেখতে চান নিজেকে

জানি না, কী করবো না করবো। আসলে এগুলো আগে থেকে পরিকল্পনা করে রাখতে ভাল লাগে না।