বিস্ময় বালক ড. আশরাফ সিয়ামের সফলতার গল্প

আমার হাজবেন্ড হার্টঅ্যাটাক করার পরে এন জিও গ্রাম করে জানতে পারলাম তার বেশ বড় বড় ২ টা ব্লক। একটা ১০০% আর অপরটি ৯২%। বাইপাস ছাড়া কোনো উপায় নাই। আমার হাজবেন্ডের বুক কাটতে হবে একথা শোনার পর থেকে আমার নাওয়া খাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। সারাদিন শুধু কান্না করি। এর মধ্যে ঢাকার বড় বড় সব ডাক্তারকে দেখালাম। সবারই এক কথা বাইপাসই করতে হবে বিকল্প কোনো পথ নাই। শুনেছি হার্ট ফাউন্ডেশনে খুব ভালো চিকিৎসা হয়। তাই হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রশান্ত কুমারকে দেখিয়ে ওখানেই বাইপাস করাবো বলে ঠিক করলাম। সব কিছু যখন ঠিকঠাক তখন আমার ছোট ভাই লিটন আমার হাজবেন্ড কে এসে বললো,
সুরুজ ভাই, চলেন হৃদরোগ হসপিটাল থেকে ঘুরে আসি। ওখানকার ড.সিয়াম আমাদের শরীয়তপুরের এবং গুলফাম মামার পরিচিত। ওখানকার পরিবেশ কেমন দেখে আসি। পছন্দ হলে ওনার কাছেই করাব। পরিচিত সার্জন থাকলে অনেক লাভ আছে। ঠিক আছে তাহলে চলো গিয়ে দেখি।

পরদিন হৃদরোগে গিয়ে সিয়াম সাহেবের সাথে কথা বলে তার কথায় মুগ্ধ হয়ে তার পরদিনই আমার হাজবেন্ড হৃদরোগে ভর্তি হয়ে গেলেন। ড.আশরাফুল হক সিয়াম, একজন সফল চিকিৎসক, প্রচণ্ড রকম একজন ভালো মানুষও। প্রথম দর্শনেই যার সুন্দর ব্যবহারে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। অতঃপর ২৭ জুলাই তার হাতেই আমার হাজবেন্ডের বাইপাস অপারেশন হয়। সেই সুবাদেই তার সাথে পরিচয়। হৃদরোগ হসপিটালে থাকাকালীন সিয়াম স্যার যখন তার টিম নিয়ে রোগী ভিজিট করতে রাউন্ডে আসতেন তার কথা শুনেই রোগী অর্ধেক ভালো হয়ে যেত। শরিয়তপুরের ছেলে বলে কিনা জানিনা তাকে দেখলেই আমার খুব আপন মনে হতো, অনেকটা নিজের ভাইয়ের মতো। সিয়াম স্যার এবং তাদের পুরো টিম আমার হাজবেন্ডকে স্পেশালি টেক কেয়ার করেছেন। সিয়াম স্যারকে দেখলে কৃতজ্ঞতায় মনটা ভরে উঠতো। যখনই তার সাথে আমার দেখা হতো আমার চোখে মুখে থাকতো কৃতজ্ঞতার ছাপ। যা হয়তো তিনি খেয়ালও করতেন না।

গত ২৬ আগস্ট এই সিয়াম স্যারই কোনোরকম কাঁটা ছেঁড়া ছাড়াই হার্টের ছিদ্র বন্ধ করার সফল অপারেশন করেছেন। বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে তিনি বিপ্লব সাধন করেছেন। আর এ বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধণ করার জন্য বিদেশ থেকে উন্নত চিকিৎসা সামগ্রীর যোগান দিয়েছেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। এখন আর কাউকে হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য অসুস্থ শরীর নিয়ে দেবী শেঠীর কাছে ছুটতে হবে না। দেশেই যদি দেবী শেঠি থাকে তাহলে আর দূরে গিয়ে লাভ কী?
শুধু চিকিৎসক হলেই হয় না, তাকে হতে হয় বিনয়ী ও মানবিক। সিয়াম স্যার তেমনই একজন।

ড.আশরাফ সিয়ামের ওয়াল থেকে তার প্রথম কেস নিয়ে নিজের কিছু কথা। আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি তারচেয়েও বেশী ভালোবাসি তা বাস্তবায়ন করতে। স্বপ্ন ছিল MICS শুরু করবো জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে। আজ স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নিল। ১ম কেস করলাম। আলহামদুলিল্লাহ, রোগী ভালো আছে।
সরকারিভাবে এটাই প্রথম।

ধন্যবাদ
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে অনুপ্রেরনা দেয়ার জন্য এবং প্রতি মুহুর্ত রোগীর খোঁজখবর নেওয়ার জন্য। এম ইকবাল আর্সলান স্যারকে স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করার জন্য। ডাঃ জুলফিকার লেলিনকে সবসময় সাহস যোগানোর জন্য। ডাঃ আবুল আজাদকে পাশে থাকার জন্য এবং ডাঃ কাজল দা কে।।।

বিশেষ ধন্যবাদ
অধ্যাপক আফজালুর রহমান, অধ্যাপক ফারুক আহমেদ, ডাঃ প্রশান্ত কুমার চান্দা এবং টিম এর সকল সদস্য।

এবার বলি তাকে নিয়ে আমার কিছু কথা।
আজ ছিল আমার হাজবেন্ডের বাইপাস অপারেশন উত্তর ফলোআপের ডেট। আজ তার অপারেশনের ১ মাস পূর্ণ হলো ।মনে মনে আগেই প্লান করে ফেললাম আজ যেভাবেই হোক সিয়াম স্যারের সাথে দেখা করবই এবং তাকে আমার লেখা কিছু বই উপহার দিব। সময় ও সুযোগ হলে তার সাথে কিছু ছবিও তুলবো। স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে সকাল সকাল হাজবেন্ডকে নিয়ে জাতীয় হৃদরোগ হসপিটালে পৌঁছলাম। বিশাল লাইনে দাঁড়িয়ে ফলোআপের পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ করলাম। এরপর গেলাম সিয়াম স্যারের চেম্বারে। ওখানে গিয়ে শুনি স্যার ওটিতে। তার মানে ২ টার আগে তার দেখা পাবো না। তবুও ধৈর্য ধরে বসে থাকলাম। যে মানুষটি আমার হাজবেন্ডের জন্য এত কিছু করলেন তার জন্য আমি এইটুকু করব না?

আমি জীবনে অনেক ড. দেখেছি কিন্তু ওনার মতো দেখিনি। চিকিৎসকরা এত ভালো আর বিনয়ী হয়! শুনেছি দেবী শেঠী তার কথার মাধ্যমেই রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে তোলেন। সিয়াম স্যারের মাঝে আমি তারই প্রতিফলন দেখতে পাই। অনেকেই হয়তো আমার কথা বিশ্বাস করতে চাইবেন না। সিয়াম স্যার আমার কেউ হয় না তবে তাকে নিয়ে আমি কেন এত কথা লিখছি? লেখার একটাই উদ্দেশ্য আমি যেমন একজন বিনয়ী ড. এর কাছে চিকিৎসা নিয়ে উপকৃত হয়েছি বাংলাদেশের সকল হার্টের রোগীরাও এই সেবাটা পাক। আমার এই পোস্টে আমি নূপুরের গলা জড়িয়ে ধরা সিয়াম স্যারের একটা ছবি পোস্ট করেছি। মিডিয়ার বদৌলতে আশাকরি সবাই কম বেশী নূপুরকে চেনেন। না চিনলেও একটু বলি, নূপুর হলো সেই মেয়ে, কোনো কাটা ছেঁড়া ছাড়া যার হার্টে সফলভাবে অস্ত্র প্রচার হয়েছে। একজন ড. কতোটা আন্তরিক হলে অচেনা অজানা নূপুরকে নিজের মেয়ের মত জড়িয়ে ধরতে পারেন। সিয়াম স্যার মেয়ে রোগীকে মা বলে ডাকেন আর পুরুষ রোগীকে বাবা বলে ডাকেন। তার এই মধুর ডাকেই রোগী অর্ধেক সুস্থ হয়ে যায়।

আমার ভীষণ ইচ্ছে তার সাথে ২ মিনিট কথা বলি ও ছবি তুলি।উনি যা ব্যস্ত থাকেন আদৌ তা সম্ভব হবে কিনা জানি না।অতঃপর ২ টার সময় সিয়াম স্যার এলেনসাথে সাথে একগাদা ফাইল এসে হাজির হলো স্যারের সামনে। আমি অবাক হয়ে গেলাম যে মানুষটা এই মাত্র অপারেশন থিয়েটার থেকে এলেন সে কিনা ক্লান্তিহীনভাবে একের পর এক ফাইল সই করে যাচ্ছেন, বিভিন্ন রোগীর সাথে কথা বলে যাচ্ছেন। কার কি সমস্যা বিনয়ের সাথে সমাধান দিয়ে যাচ্ছেন আমি আড়াল থেকে চুপচাপ তার এনার্জেটিক কর্মদক্ষতা দেখেই যাচ্ছি কিছু বলার সাহস পাচ্ছি না।অনেকক্ষণ পর স্যার সেটা খেয়াল করলেন এবং জানতে চাইলেন আপনাদের কি সমস্যা? স্যার আজ আমরা কোনো সমস্যা নিয়ে আসিনি। তাহলে? এসেছি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে আর সেই সাথে আমার লেখা কিছু বই গিফ্ট করতে বলেই বইগুলো তার সামনে এগিয়ে দিলাম। এত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি আমার লেখা বইগুলো নেড়ে চেড়ে দেখলেন। সেই ফাঁকে তাকে জানালাম স্যার আমি আপনাকে নিয়ে একটা লেখা লিখেছি। লেখাটির নাম “আরেক দেবী শেঠীর আবির্ভাব”। লেখাটি আপনার পেইজের কমেন্ট বক্সে দিয়েছি।

আপনিতো ব্যস্ত মানুষ হয়তো সময়ও পান না দেখার। আমার কথা শুনে সাথে সাথে ফেসবুকে লেখাটি একঝলক দেখলেন। স্যারকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বললাম স্যার আপনার সাথে একটা ছবি তুলতে চাই। তার রুমের বাইরে অসংখ্য রোগীর জটলা। রোগীরা অস্থির হয়ে আছে তাই স্যার আর সময় নষ্ট করলেন না। ঝটপট ছবি তুলে আমাকে বিদায় দিলেন।স্যারের সাথে কথা বলে বাসায় ফিরে ফেসবুক খুলে দেখি উনি আমাকে রিকো পাঠিয়েছেন।তার রিকো
দেখে আমি আনন্দে বাচ্চাদের মতো লাফাতে লাগলাম। ওনার মতো একজন নামকরা ড.আমাকে রিকো পাঠিয়েছেন!!!
প্রিয় পাঠক ও বন্ধুরা একটু ভাবুন একজন ড. কতোটা বিনয়ী হলে এটা করতে পারেন! ওনার বয়স মাত্র ৩৬, এত অল্প বয়সে যিনি এত সুনাম অর্জন করতে পারেন বাকী জীবন উনি কি করবেন?

আমার বিশ্বাস উনি ওনার মেধা ও আন্তরিকতা দিয়ে একদিন দেবী শেঠীকেও ছাড়িয়ে যাবেন।তখন আর বাংলাদেশের মানুষ ইন্ডিয়া, চেন্নাই, বেঙ্গালোরে ছুটবে না।ছুটবে বাংলাদেশের দেবী শেঠী সিয়াম স্যারের কাছে।

ড.আশরাফ সিয়াম এক বিস্ময় বালকের নাম। যিনি একের পর এক বিস্ময় সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।এর আগে আমার এক পোস্টে তাকে আমি দেবী শেঠীর সাথে তুলনা করেছিলাম।আমার লেখা পড়ে উনি বিনয়ের সাথে অনুরোধ করে বলেছিলেন,আপা এত বেশি লিখবেন না।লেখাটা একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে।
আমি তখন তাকে বলেছিলাম,আপনার অনুরোধ আমি রাখব। আমি আর বেশি কিছু লিখব না তবে আপনি আমার লেখার চেয়েও বেশি সফল হবেন, এবং সুনাম অর্জন করবেন।
আমার কথাই তিনি এখন সত্য প্রমাণিত করছেন।প্রতি সপ্তাহেই এখন তার সফলতার খবর পাই।তাই আমার কাছে উনি বিস্ময় বালক।আমার শরীয়তপুরে, আমার জন্মস্থানে এই বিস্ময় বালকের জন্ম ভাবতেই গর্বে বুক ভরে যায়।

আপনার একের পর এক সফলতার খবর শুনে আমি মুগ্ধ। শুধু শরীয়তপুর না আপনি পুরো বাংলাদেশের অহংকার।
তার ২ নং কেস ছিল কোনো রকম কাটা ছেঁড়া ছাড়াই বাইপাস অপারেশন করা। সেখানেও তিনি সফল হয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন।

ড. সিয়ামের ওয়াল থেকে তার ৩ নং সফলতার গল্প
কেস -৩
বুকের পাজরের হাড় না কেটে ওপেন হার্টের
অপারেশন। জবা পন্ডিত, ৩৫ বৎসর, ময়মনসিংহ। হৃদপিন্ডে ছিদ্র নিয়ে ভর্তি হয়। গত ১৪ ই সেপ্টেম্বর তার অপারেশন করা হয়। আজ বাড়ী যাওয়ার জন্য তাকে ছুটি দেয়া হলো। মাএ ৩ দিনেই জবা পুরোপুরী সুস্থ।

ধন্যবাদ সবাইকে সহযোগিতা করার জন্য।
বিস্ময় বালক ড. আশরাফ সিয়ামের আরো কিছু সফলতার চিত্র ।

মাননীয় পানি সম্পদ উপমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক জননেতা জনাব আলহাজ্ব একে এম এনামুল হক শামীম এমপি মহোদয়ের আপন ছোট ভাই ডাঃ আশ্রাফুল হক সিয়াম “চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য… JCI Bangladesh TOYP 2019 Ten Outstanding Young Persons Of Bangladesh Award”-এ ভূষিত হওয়ায় আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।।

উল্লেখ্য তিনি ‘বুকের হাড় না কেটে প্রথমবারের মতো MICS পদ্ধতিতে বাংলাদেশের হৃদরোগ হাসপাতালে সফলভাবে হার্টের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন এবং পর পর ৩ টি কেসেই সফলতা অর্জন করেন।
এভাবেই একের পর এক এগিয়ে যাবে বিস্ময় বালক ড.আশরাফ সিয়ামের সফলতার গল্প।আবারও অভিনন্দন, শুভকামনা ও ভালোবাসা প্রিয় ড. সিয়াম।

এই বিস্ময় বালক ড.আশরাফ সিয়াম একের পর এক বিস্ময় ঘটিয়েই যাচ্ছেন এবং সফলও হচ্ছেন।তিনি রোগীকে ভালোবেসে তার চিকিৎসা করেন।রোগীর সাথে অদ্ভুত এক ভালোবাসার সেতুবন্ধন রচনা করেন সিয়াম সাহেব।নিজ যোগ্যতা ও আন্তরিকতা দিয়ে
এভাবেই হাজারও রোগীর মন জয় করে এগিয়ে যান।যে কথা কখনো বলা হয়ে উঠেনি সে কথাই আজ পাব্লিক প্লেসে বলছি, আপনার ও আপনার টিমের সকলের প্রতি আজীবন আমি কৃতজ্ঞ।অনেক ভালোবাসা ও শুভকামনা আপনার জন্য।

অবশেষে কামনা করি সকল রোগীর হৃদয়ে গেঁথে থাকুক আশরাফুল হক সিয়াম নামটা। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক বাংলাদেশের বিস্ময় বালক ড.সিয়ামের সফলতার গল্প।

লেখক: খায়রুননেসা রিমি
সিনিয়র শিক্ষক
সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ
বারিধারা, ঢাকা।