মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুতে বসল ২৯তম স্প্যান, ৪৩৫০ মিটার দৃশ্যমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা সংকটের মধ্যেই মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ১৯ ও ২০ নম্বর পিলারের ওপর ২৯তম স্প্যান ‘৪-এ’ বসানো হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে স্প্যানটি বসানো হয়। এতে সেতুর ৪ হাজার ৩৫০ মিটার অংশ দৃশ্যমান হলো। ২৮তম স্প্যান বসানোর ২৩ দিনের মাথায় ২৯তম স্প্যানটি বসানো হলো।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রোববার (৩ই মে) সকালে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ‘তিয়ান-ই’ ভাসমান ক্রেনে স্প্যানটি নির্ধারিত দুটি পিলারের কাছে কাছে নোঙর করে রাখা হয়েছিল। সোমবার সকালে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় নির্ধারিত সময় সকাল ৮টায় স্প্যানটি বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকৌশলী ও নির্মাণ শ্রমিকদের প্রচেষ্টায় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে স্প্যান বসানো সম্পন্ন হয়। ২৯তম স্প্যানটি বসাতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট।

উলেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমাণ হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হলো ২৯টি স্প্যান। প্রতিটি স্পেনের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে।

সবকটি পিলার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে।

এসএইচ/ এমটি