শরীয়তপুরে ৫০টি গ্রামে ২১ হাজার পরিবার পানিবন্দি, খাবার সংকট

পরিক্রমা ডেস্ক: শরীয়তপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে পদ্মা নদীর পানি নড়িয়ার সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ কারণে নদীর তীর উপচে শরীয়তপুরের ৫০টি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

গ্রামগুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ করে প্রায় ২১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ওই সব মানুষ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন।

বন্যার পানিতে নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে যাতায়াতের পাঁচটি পাকা সড়ক তলিয়ে গেছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় দুই উপজেলার যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সোমবার বন্যা ও ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে আসেন শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম। তিনি নড়িয়া বন্যার পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।

এ সময় পানিসম্পদ উপমন্ত্রী শামীম বলেন, বন্যা ও বর্ষাকে সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতির লক্ষে আমরা করোনা সংকটেও কাজ অব্যাহত রেখেছি। বন্যা আঘাতের পর থেকে জেলা প্রশাসকসহ মাঠ পর্যায়ে আমাদের সকল কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত কথা বলেছি। তারা জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে।

তিনি বলেন, নদী ভাঙন-বন্যার্তদের পাশে আমরা ছিলাম, এখনও আছি। তারেক জিয়া লন্ডনে বসে আছে, তারা দুর্যোগে মানুষের পাশে নেই।

এদিকে, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু গতকাল রোববার (১৯ জুলাই) জাজিরা উপজেলার জব্বার আকনকান্দি গ্রাম থেকে বনার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন।

পানিবন্দি মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। ওইসব গ্রামের মানুষ বন্যার পানির কারণে ঘরে আটকা পড়েছেন। অনেকের ঘরেই শুকনা খাবার নেই। পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না করতে উঁচু মাচাং ও নৌকা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে গ্রামগুলোতে খাবার পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে শনিবার বিকেল থেকে নড়িয়া-জাজিরা সড়ক, নড়িয়া-পাঠানবাড়ি-জাজিরা সড়ক, নড়িয়া-আন্দারমানিক-জাজিরা সড়ক, নড়িয়া-বিলাশপুর-জাজিরা সড়ক ও নড়িয়া-মোক্তারেরচর-বিলাশপুর সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ার ফলে নড়িয়া উপজেলার সাথে জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে মানুষ নৌপথে ট্রলার ও নৌকায় যাতায়াত করছেন।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রুপা রায় বলেন, পদ্মার তীরবর্তী গ্রামগুলোর সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে নড়িয়ার-জাজিরা যাতায়াতের বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ বিপাকে পড়েছেন। অনেক স্থানের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এ কারণে সাধারণ মানুষের আরও দুর্ভোগ বেড়েছে।

নাওডোবা ইউনিয়নের মাঝিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা শেফালি আক্তার বলেন, দুই সপ্তাহ যাবৎ ঘরে পানি। পরিবারের সদস্য ও গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছি। বাড়ির আঙিনায় উঁচু করে গবাদি পশু রাখতে হয়েছে। আর টিনের ঘরের দোতালায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে।

জাজিরার আকনকান্দি গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন আকন বলেন, এলাকার সকল পানির নলকূপ তলিয়ে গেছে। অনেক দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে রান্না করতে।জ্বালানি কাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। রান্না ঘর তলিয়ে গেছে। এখন নৌকায় বসে রান্নার কাজ করতে হচ্ছে।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ত্রাণ সহায়তা বন্যা দুর্গতদের মাঝে বিতরণ শুরু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতির কাজ চলছে। প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে ত্রাণের আওতায় আনা হবে। জাজিরায় ১১০ মেট্রিকটন ও নড়িয়ায় ৬০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা ইতোমধ্যে বিতরণ কাজ শুরু হয়েছে।

এসএইচ/ এমটি