শরীয়তপুর থেকে সচিবালয়

পদ্মা নদীর পাড় ঘেঁষে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সূতিকাগার হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সমৃদ্ধ রয়েছে যে জেলাটি তার নাম শরীয়তপুর। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লিখতে হলে স্বাভাবিকভাবেই উল্লেখ করতে হয় জেলাটির নাম। অবকাঠামোগত উন্নত না হলেও জেলাটির ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। ধর্মীয়-সামাজিক আন্দোলনের বহু নেতা, কবি-সাহিত্যিক, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ জেলাটির গৌরব বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শরীয়তপুর জেলার অবকাঠামোগত প্রভূত উন্নয়ন ঘটেছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু সম্পন্ন হলে জেলাটির আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাপকতর হবে।

জেলাটির বেশ কিছু উন্নয়নে যিনি ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন তার নাম মোঃ আনিছুর রহমান। শরীয়তপুরের এই কৃতী সন্তান বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে দক্ষতা ও সততার পরিচয় দিয়ে শরীয়তপুরের সুনাম উজ্জ্বল করেছেন বহুগুণে। সত্যিকারের একজন আদর্শবান মানুষ হতে হলে দরকার মেধা, অধ্যবসায়, অসীম ধৈর্য ও পরিশ্রম। তেমনই মেধা আর অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে তিনি রাষ্ট্রের সিনিয়র সচিব হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মোঃ আনিছুর রহমান শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার প্রত্যন্ত গ্রামে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। নানান প্রতিকূলতার মধ্যে অবিরাম পরিশ্রম করে নিজেকে একজন আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন তিনি।

তখনকার দিনে শরীয়তপুরে তেমন ভালো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। তাই লেখাপড়ার প্রয়োজনে তাকে পাড়ি দিতে হয় মধ্য জেলা চাঁদপুরে। ভর্তি হন চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি এবং চাঁদপুর কলেজ হতে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগে। ভালো ফলাফল নিয়ে সেখান থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে মোঃ আনিছুর রহমান ১৯৮৫ ব্যাচের বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সদস্য হিসেবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮ সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। কর্ম জীবনে তিনি সহকারী কমিশনার, উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারপর তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, অর্থ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব/সিনিয়র সহকারী সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। উপসচিব হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে যোগদান করেন এবং ০৪ এপ্রিল ২০১৮ তারিখ হতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। দৃঢ?তা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনের সুবাদে তিনি সরকারের অত্যন্ত আস্থাভাজন একজন কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত লাভ করেন। তিনি ০৫ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব পদে যোগদান করেন এবং ২৭ জানুয়ারি ২০২০ তিনি সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে সিনিয়র সচিব হিসাবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেছেন তিনি। যার ভিতরে উল্লেখযোগ্য, ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, ভিয়েতনাম, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, রাশিয়া, ফিলিপাইন, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রিয়া, চেক রিপাবলিক, তুরস্ক, নরওয়ে, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রেনেডা, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, মালাওয়ি, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ব্রাজিল, সৌদি আরব রয়েছে। তাঁর সহধর্মিণী সালমা সুলতানা রূপালী। তাদের এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

লেখক: রফিকুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার: সংবাদ সংস্থা ইউএনবি

বি:দ্র: লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় শরীয়তপুরের আদি ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং জেলার বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত “শরীয়তপুর পরিক্রমা’র” স্বরণিকায়।