শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ, জাতির সূর্য সন্তানদের স্মরণ করার দিন

সেই নৃংশস হত্যাযজ্ঞ নিধনে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর পালন করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এ হত্যাকান্ডের পেছনে উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিকে বুদ্ধিজীবী শুণ্য করা এবং বাঙালিরা স্বাধীন হলে ও শতবছর পেরিয়ে গেলে যাতে জাতি হিসেবে মাথা উচুঁ করে দাড়াতে না পারে সেই লক্ষ্যে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পনের মাত্র দু,দিন আগে রাতের অন্ধকারে ঘাতকচক্র কেবল ঢাকা শহরেই প্রায় দেঢ় শতাধিক বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন পেশার কৃতি সন্তানদেরকে চোখ বেঁধে অপহরণ করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে। সান্ধ্যআইনের মধ্যে সেই রাতে তালিকা ধরে ধরে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী ও পদস্থ সরকারি বে-সরকারি কর্মকর্তাদের ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় । পরে হত্যা করে ফেলে রাখা হয় ভূতুড়ে অন্ধকারে।

দেশের বুদ্ধিজীবী হত্যা মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা জেনারেল রাও ফরমান আলী। আর হত্যাযজ্ঞের প্রধান সহযোগী হিসেবে আল বদর, রাজাকার, আলসামস, বাহিনীর ৫০০ জন সদস্যকে নিয়োজিত করেন কুখ্যাত দেশদ্রোহী পাকিস্তানের প্রেতাত্তা গোলাম আযম। বুদ্ধিজীবী নিধনের মূল পরিকল্পনাটি হয় ১০ ডিসেম্বর।

একাত্তুরে বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞের শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রক’ত সংখ্যা আজও সঠিকভাবে নিরুপন করা যায়নি। তবে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাপিডিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবীর যে সংখ্যা দ্বাড় করানো হয়েছে, সে অনুযায়ী শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ছিলেন, ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ১৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিৎসক, ৪২ আইনজীবী, ১৬ শিল্পী, সাহিত্যিক, প্রকৌশলী। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক‘জন–ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মূনীর চৌধূরী, দার্শনিক গবিন্দ চন্দ্র দেব,শিক্ষাবিদ জ্যোর্তিময়গুহ ঠাকুরতা, রাজনীতিবিদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত,দানবীর রনদাপ্রসাদ সাহা, শিক্ষানুরাগী অধ্যক্ষ নতুন চন্দ্র সিংহ, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, শিক্ষাবিদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধূরী, অধ্যাপক রাশিদুল হাসান, আনোয়ার পাশা, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সিরাজুল হক খান, ড. মুক্তাদির, ড. সালেক, ড.আযিমুদ্দিন, সায়েদুল হাসান, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. গোলাম মোর্তজা, ডা. আলীম চৌধুরী. সুরকার আলতাফ মাহমুদ, সাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সার, সাংবাদিক সেলিনা পারভীন, সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন হোসেন, আবুল খায়ের, নিজামুদ্দিন আহমেদ, শহীদ সাবের, ফয়জুল মহী, আনম গোলাম মোস্তফা প্রমূখ।

বিজয়ের আনন্দকে সামনে রেখে জাতি আজ মীরপুর ও রায়ের বাজার বধ্যভুমিতে নির্মিত স্মৃতিসৌধ, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা ও বেদনার সঙ্গে স্মরণ করবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের। দেশের সর্বত্রই আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং শোকের প্রতীক কালো পতাকা ওড়ানো এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আস্থাশীল প্রতিটি বাঙালি দ্বিধাহীন চিত্তে কালো ব্যাজ ধারণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে।

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী। সারা দেশের জেলা উপজেলাগুলোতে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে এই মহান শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোসহ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ অর্পণ করা হয়েছে।