সাংবাদিক, সাংবাদিকতা এবং আমাদের শরীয়তপুর

বছর তিনেক আগের ঘটনা। আমার এলাকার এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। সে খবর পেলাম পরিচিত একজনের ফোনে। আত্মহত্যার খবরটা আমাকে দেওয়া তার ততটা জরুরি ছিল না। তার চেয়ে পরিচিত ওই ব্যক্তির জরুরি বার্তাটা ছিল-একদল ??’সাংবাদিক’ এসে তরুণীর অভিভাবকদের জেরা করছে, টাকা চাচ্ছে। আমি কিছুটা বিব্রত হয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলাম।
কিন্তু পরিচিত ব্যক্তি নাছোড়বান্দা। তার কথা-‘মেয়েটে আত্মহত্যা করেছে, তার বাবা-মা, পরিবারের লোকজন এমনিতেই শোকাহত। এরমধ্যে তোমাদের সাংবাদিকদের টাকা দিতে হবে কেন?’ তার বিশ্বাস বিষয়টি আমি সুরাহা করতে পারবো।
এলাকার পরিচিত ব্যক্তির তথ্যানুযায়ী-সাংবাদিক নামধারী ব্যক্তিরা দাবি করছেন, বাবা-মা মেয়েটাকে মেরে ফেলেছে, এখন আত্মহত্যার নাটক সাজাচ্ছে। তাদের টাকা না দিলে তারা তাই লিখে দেবে! পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার মতোও প্রছন্ন একটা হুমকি আসে।

আমি পরিচিত ব্যক্তিকে এই বলে আশ্বস্ত করলাম-আত্মহত্যা করেছে কি, করেনি-সেটা পুলিশ তদন্তের বিষয়। মর্গের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করবে। সাংবাদিকরা তরুণীর স্বজন, স্থানীয় লোকজন, দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং পুলিশের বক্তব্য নিতে পারে। প্রতিবেদন তৈরি করতে পারে, ছাপতে পারে। কিন্তু টাকা তো চাইতে পারে না, নিতে পারে না। নাছোড়বান্দা পরিচিতজনকে তার ফোনটি ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক দলের একজনকে দেওয়ার জন্য বললাম। নিজের পরিচয় গোপন করে আত্মহত্যাকারী তরুণীর স্বজন পরিচয়ে কথা বললাম, সাংবাদিক সাহেবের সাথে। তিনি আমাকেও নাস্তানাবুদ করার চেষ্টা করলেন। বলতে চাইলেন-এটি সেফ হত্যাকা-ওই সাংবাদিকের পরিচয় জানতে চাইলে ফোনে বললেন-টুয়ান্টিফোরে কাজ করেন তিনি। আমি তখন চ্যানেল টুয়ান্টিফোরের শরীয়তপুর প্রতিনিধির নাম বললাম এবং তাকে চিনি বলে জানালাম। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি ধমকের সুরেই বললেন, আপনাকে বলেছি চ্যানেল টুয়ান্টিফোরে কাজ করি?’ আমি এবার একটু উত্তেজিত হয়ে বললাম-তাহলে নিউজ টুয়ান্টিফোরে? এবং ওই প্রতিনিধিও আমার পরিচিত বলে জানালাম। যদ্দুর মনে পড়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। বিনীতভাবে বলেছিলাম- ভাই আমিও ঢাকায় একটি প্রথম সারির পত্রিকায় কাজ করি। এরপর আর বেশিক্ষণ ঘটনাস্থলে ওই সাংবাদিকের দল থাকেননি। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে সেটা চাইনি। আমার চাওয়া ছিল-ঘটনাটি লেখার মতো হলে অবশ্য লিখুক, যা ঘটনা তাই যেন লেখা হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এই চাওয়াটা সবার।

আমি প্রবলভাবে বিশ্বাস করতে চাই উপরের ঘটনাটি আমাদের শরীয়তপুরের সাংবাদিকতার একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনামাত্র। নেতিবাচক ঘটনাটি দিয়ে আমার লেখাটা শুরু করলেও শরীয়তপুরে সাংবাদিকতা, সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। এই ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিরা রয়েছেন। যারা স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতায় সফলতা দেখিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সফল হয়েছেন। এ সংখ্যাটা অনেক বড়। হয়তো জেনে অবাক হবেন-আজ থেকে ১৫০ বছর আগেও শরীয়তপুরের নড়িয়ার এক অজোপাড়া গা থেকে পত্রিকা প্রকাশিত হতো! নড়িয়া উপজেলার লোনসিং স্কুলের পন্ডিত দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় দেড়শ’ বছর আগে লোনসিং থেকেই ?’অবলা-বান্ধব’ নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করতেন। ইতিহাসের বই ঘেটে জানা যায়-১৮৬৯ সালে তিনি ওই পত্রিকাটি প্রকাশ করেছিলেন। দেড় শতাব্দি আগে এই অঞ্চল থেকে সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করা বিশাল খবরই বটে।

এতোবছরে গণমাধ্যমের বিকাশ ঘটেছে দেশে। কিন্তু সেই তুলনায় শরীয়তপুরে সাংবাদিকতার মান, গণমাধ্যমকর্মীদের মান কতোটুকু এগিয়েছে তা হয়তো সময়ই বলে দেবে। কিন্তু স্থানীয়ভাবেও শরীয়তপুর থেকে বেশ কয়েকটি দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে ডজনখানেক অনলাইন পত্রিকা। এর বাইরে প্রায় সব জাতীয় দৈনিক, অনলাইন পোর্টাল এবং টেলিভিশনগুলোতেও শরীয়তপুরের প্রতিনিধি রয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই পেশাগত ক্ষেত্র্রে সফল। সততা, নিষ্ঠা, নিয়ম-নীতি বজায় রেখে তারা সাংবাদিকতা করে চলেছেন। সাংবাদিকতায় তারা সাহসিকতা ও নির্ভিকতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। এই নির্ভিক গণমাধ্যমকর্মীদের নামের তালিকা বেশ লম্বা। আমি এখানে তাদের নাম লিখতেও পারতাম। কিন্তু একটা শঙ্কা তো থেকে যাচ্ছে-যদি আমার লেখা থেকে একজনও সৎ ও নির্ভিক সাংবাদিকের নাম বাদ পড়ে, তাহলে বড় অপরাধী হয়ে যাবো। বস্তুত এই ধরনের সৎ সাংবাদিকদের পাঠক চেনেন। পাশাপাশি মহান এই পেশাটাকে যারা কলুষিত করছেন, করার চেষ্টা করছেন-তাদেরও পাঠক চেনেন।

ঢাকাতে আমি একটি জাতীয় দৈনিকে কর্মরত থাকলেও শরীয়তপুর থেকে প্রকাশিত পত্রিকাগুলো দেখার চেষ্টা করি। বিশেষ করে অনলাইন পোর্টালগুলো তো নিয়মতিই দেখি। জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলেও আমি আমার জেলার খবরের সন্ধান করি বিভিন্ন পত্রিকায়। কখন পাই, কখনও হতাশ হই। শরীয়তপুর থেকে নিয়মিত যেসব পত্রিকা বা অনলাইন প্রকাশিত হচ্ছে তার মধ্যে ‘দৈনিক রুদ্রবার্তা’, ‘দৈনিক হুংকার’, ‘দৈনিক বর্তমান এশিয়া’, ‘সাপ্তাহিক কাগজের পাতা’, ‘সাপ্তাহিক বার্তা বাজার’, ‘সাপ্তাহিক শরীয়তপুর সংবাদ’ অন্যতম। এ ছাড়া প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইন পত্রিকাতেও পিছিয়ে নেই শরীয়তপুর। অনলাইন পোর্টাল ‘শরীয়তপুর পরিক্রমা’, ‘শরীয়তপুর নিউজ২৪.কম’, ‘শরীয়তপুর পোর্টাল’, ‘নড়িয়া বার্তা’ উল্লেখ করার মতো। এসব দৈনিক, সাপ্তাহিক বা অনলাইনের মানের ভালো-মন্দ নিয়ে কথা বলবো না। তা হয়তো আজ থেকে বহু বছর পর ইতিহাসের পাতা ঘেটে কেউ বিশ্লেষণ করবে। যেমন এই লেখাতে দেড়শ’ বছর আগে প্রকাশিক সাপ্তাহিক ?’অবলা-বান্ধব’ পত্রিকাটি আঞ্চলিক ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে, আমরাও মনে রাখতে পেরেছি।

শরীয়তপুরের সাংবাদিক এবং সংবাদ মাধ্যমে যা চাই : শরীয়তপুর থেকে প্রকাশিত সংবাদ মাধ্যমগুলো এবং স্থানীয়ভাবে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের কাছে একজন পাঠক হিসেবে কিছু চাওয়ার আছে। পত্রিকাগুলোর মফস্বল পাতায় চোখ রাখলে অন্যান্য জেলার যেসব প্রতিবেদন দেখতে পাই, নিউজের একই উপাদান আমাদের জেলাতেও বর্তমান। কিন্তু তা পত্রিকার পাতা, সাইবার স্পেস বা টিভি পর্দায় সব সময়ে থাকে না। নানা সমস্যা এবং বড় বড় সব সমস্যা, অনিয়ম-দুর্নীতি নিশ্চয় আমাদের জেলাতেও রয়েছে। রাস্তাঘাট খারাপ রয়েছে। সরকারী দফতর-হাসপাতালের অনিয়ম বা সমস্যা নিয়ে খুব প্রতিবেদন চোখে পড়ে না। এর বাইরে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু নির্মানকে কেন্দ্র করে। এতে পাল্টে যাচ্ছে শরীয়তপুরের উন্নয়ন চিত্র। এই সেক্টরে কিছু কিছু প্রতিবেদন হলেও আশানুরূপ প্রতিবেদন সেখানে পাচ্ছি না।

২০১৮ সালে নড়িয়ায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন নিয়ে, ভাঙনের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সমস্যা নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন একেবারেই কম হয়েছে। বরং এই ক্ষেত্রে আমাদের সম্মানিত স্থানীয় সাংবাদিকদের বেশির ভাগই ব্যস্ত ছিলেন-কোন নেতা ঘটনাস্থলে গেলেন, কারা উপস্থিত ছিলেন-এসব প্রতিবেদন নিয়ে। ২০১১ সালে নড়িয়ায় দোররা মেরে কিশোরী হেনা হত্যাকা-, ২০১৬ সালে পদ্মায় পিনাক লঞ্চডুবির ঘটনাগুলোও আমাদের স্থানীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে আমরা তুলে ধরতে পারিনি। এসব ক্ষেত্রে সম্ভবত যথাযথ দায়িত্বও পালন করতে পারেননি আমাদের স্থানীয় সাংবাদিকদের বড় একটা অংশ। বরং বেশিরভাগ সময়ে ওই অংশটা তাদের কলমের অপব্যবহার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন ক্ষুদ্র পলিথিন ব্যবসায়ী, বেকারী ব্যবসায়ী, অটোরিকশা চালককে অবৈধ প্রমানে। নিউজ প্রকাশ করে অনিয়ম দূর করা নয়; আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলে দেবে-এমন ভয় দেখিয়ে তারা অবৈধ অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু কি সমস্যা, অনিয়ম, দুর্নীতির প্রতিবেদন? ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরা শরীয়তপুর সম্ভাবনার জেলা। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শরীয়তপুরের সাধারণ মানুষের, নেতাদের অসামান্য অবদান রয়েছে। রয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং এলাকা। এসব বিষয় জাতীয় বা স্থানীয়ভাবে গণমাধ্যমে জায়গা দখল করতে পারেননি আমাদের স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। শরীয়তপুরের বিশাল জনগোষ্ঠী প্রবাসী। তাদের রেমিটেন্সে সচল আমাদের অর্থনীতি। এই বিষয় নিয়েও স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে হতে পারে বা হতে পারতো উদ্দীপনামূলক বড় প্রতিবেদন। নিশ্চয় শরীয়তপুরের গণমাধ্যমের পাঠকেরা আমার স্বল্প এই আলোকপাতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করবেন না।

প্রতিবন্ধকতা কোথায়: গণমাধ্যমে কাজ করার সুবাদে নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও অজানা নয়। মফস্বল সাংবাদিকদের স্বল্প বেতন বা বেতন না থাকা, হুমকি, ভয়-গণমাধ্যমে বড় প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু এসব প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলেই সাংবাদিকতায় সফল হয়েছেন শরীয়তপুরের অনেক সন্তান। যারা মফস্বল সাংবাদিকতায় সফল পাঠ চুকিয়ে জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকতাতেও সফল হচ্ছেন। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে আমি চিহ্নিত করি-শিক্ষা, অজ্ঞতা এবং? ‘আমি সাংবাদিক’-এই ভাবখানা।

আবারো পরিচিত এক ভিন্ন ব্যক্তির ঘটনা বলে লেখাটা শেষ করতে চাইছি। বহু বছর পর ঢাকাতেই তার সঙ্গে দেখা। পেশায় তিনি দর্জি দোকানি। ব্যবসা কেমন চলছে, জানতে চাইলে জানালেন, তিনি এখন সাংবাদিকতা করেন! শরীয়তপুরের স্থানীয় একটি পত্রিকার পরিচয়পত্র বের করে দেখাতে দেখাতে জমি-জমা, পারিবারিক কলহ, বাল্যবিবাহের মতো ?’নানা ঝামেলা’ দূর করেন জানিয়ে কিছুটা গর্ব নিয়েই বললেন। উল্টোদিকে আমার মুখ মলিন, বড় ধরনের ধাক্কা খেলাম। এর কারণ এই নয় যে তিনি দর্জি পেশা ছেড়ে সাংবাদিকতায় এসেছেন। কারণটা হচ্ছে, ব্যক্তিগতভাবে চেনা ওই লোকটি যে প্রাথমিক স্কুলের গন্ডিও পার হতে পারেন নি বলে আমি জানি। অথচ উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে, পেশাগত নানা প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং গত ১৫ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন শিখে, শিখেও সাংবাদিক হতে পারি নি! বলা হয়ে থাকে, সাংবাদিকতা পেশায় সবচেয়ে বেশি জানতে হয়, সবচেয়ে বেশি পড়তে হয়। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হচ্ছে আমার ওই পরিচিত ব্যক্তির মতো।

প্রতিবন্ধকতার দ্বিতীয় বিষয়টি ‘অজ্ঞতা’ মফস্বল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়েও রয়েছে। কোনটা প্রতিবেদন, কোনটা নয়, কোনটা নিউজের উপাদান,কোনটা ভালো সংবাদ হতে পারে-এই অজ্ঞতা সবখানেই রয়েছে। আমি যখন সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা জানবো, প্রতিদিন প্রকাশিত খবর পড়বো ও দেখবো এবং সাংবাদিকতার বই পড়বো-তখন হয়তো এই সমস্যা কিছুটা কাটবে।
?’আমি সাংবাদিক’-এই পরিচয়টা শরীয়তপুর তো বটেই, মফস্বল এবং জাতীয় পর্যায়েও পেশাটা শেষ করে দিচ্ছে। যিনি সাংবাদিক তিনিও এই বলে পরিচয় দিচ্ছেন, যিনি কথিত সাংবাদিকতার একটা কথিত পরিচয়পত্র পকেটে, গলায় ঝুলিয়ে রাখেন তিনিও সেই পরিচয় দিচ্ছেন। অবশ্য দ্বিতীয়জনের গলাটা একটু বড়।

সাংবাদিকতার এই পরিচয়পত্র নিয়েও আছে মজার ঘটনা। ছাত্র জীবনে আমার এক বন্ধু এখন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। তার একটি আবদার-আমি যাতে তাকে একটি সাংবাদিকের কার্ড করে দেই। অতি আগ্রহে কারণ জানতে চাইলে বন্ধুটি জানিয়েছিল-মোটরসাইকেলে সে নানা এলাকায় ঘুরে। লোকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করা তার সহজ হবে, তা ছাড়া সম্মান আছে এই পেশায়, পুলিশও মোটরসাইকেল ধরে না, উল্টো সমীহ করে! বন্ধুর কথা শুনে আমি শান্ত ছিলাম। তাকে নিরাশ না করে একটা ভালো পরামর্শ দিয়ে বলেছিলাম- আমাদের একজন বন্ধু এখন বড় মাপের ডাক্তার, অন্য একজন ইঞ্জিনিয়ার। ওই দুটি পেশা আরো বেশি সম্মানজনক। বন্ধুটিকে এও বলেছিলাম, সাংবাদিকদের মানুষ ভালো চোখে দেখে না। শত্রুতৈরি হয়। তার চেয়ে ওই দুই বন্ধুর একজনের কাছ থেকে তাদের পেশার একটা পরিচয়পত্র নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম তাকে। এরপর আর বন্ধুটি যোগাযোগ করেনি, অন্য বন্ধুরা তাকে পরিচয়পত্র দিয়েছিল কি-না তাও জানতে পারিনি। সম্ভবত আমাদের শরীয়তপুরে এই কার্ডধারী কথিত সাংবাদিকের সংখ্যাটা জ্যামিতিক হারেই বাড়ছে। ‘বড় গলার’ এই ব্যক্তিরাই দুর্নামটা পৌছে দিচ্ছে শরীয়তপুরে কর্মরত পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল, সৎ ও নির্ভিক সাংবাদিকদের ঘাড়ে। তাই জেলা থেকে সাংবাদিকতার নামে এই অপসাংবাদিকদের প্রতিরোধ করার বড় দায়িত্বটাও যে তাদের।

লেখক: আতাউর রহমান
অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক, দৈনিক সমকাল,
স্থায়ী সদস্য : জাতীয় প্রেস ক্লাব
সাধারণ সম্পাদক
শরীয়তপুর সাংবাদিক সিমিতি, ঢাকা।

বি:দ্র: লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় শরীয়তপুরের আদি ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং জেলার বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত “শরীয়তপুর পরিক্রমা’র” স্বরণিকায়।